ঝিনাইদহে পৌর নির্বাচনের দৌড়ে প্রার্থীদের নানা কৌশল
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাচন সামনে রেখে এখনই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তপসিল ঘোষণা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় জমে উঠেছে মাঠের রাজনীতি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক প্রচারণা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকেরা নিজ নিজ নেতার গুণাবলি তুলে ধরে পোস্ট দিচ্ছেন। শুরু হয়েছে সভা-সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ ও লবিংও জোরদার হয়েছে। এলাকায় নিজেকে পরিচিত করতে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন আগ্রহীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম এ মজিদ-এর পরাজয় এবং জামায়াত প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বকর-এর বিজয়ের পর স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অভ্যন্তরে এ নিয়ে আলোচনা ও মূল্যায়ন চলছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আগেভাগেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটির পক্ষ থেকে একক প্রার্থী হিসেবে ঝিনাইদহ জেলা নায়েবে আমির আব্দুল আলিমের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
ঝিনাইদহে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে পরিচিত বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন প্রায় এক ডজন নেতা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান আক্তার, সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আ. মজিদ বিশ্বাস, সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম শাহাজাহান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপ্পু, যুগ্ম সম্পাদক ও প্রেসক্লাব সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান লাকি, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব রহমান শেখর, ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেন এবং জেলা যুবদল সভাপতি আহসান হাবিব রনক।
এ বিষয়ে জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, বড় দলে একাধিক নেতার নির্বাচন করার প্রত্যাশা থাকাটাই স্বাভাবিক। দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে। তিনি নিজেও প্রার্থী হতে আগ্রহী বলে জানান।
অন্যদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ঝিনাইদহ জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু কারাগার থেকে নির্বাচন করবেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া সাবেক পৌর মেয়র কাইয়ুম শাহারিয়ার জাহেদী হিজলও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়েছেন।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও নির্বাচনে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে নামলে ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।